বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়

Bangladesh Muktijoddha High School

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়

Bangladesh Muktijoddha High School

প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের কথা

জ্ঞানবিজ্ঞান তথ্যপ্রযুক্তির চরম সীমায় যখন গোটা পৃথিবী, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় দেশ যখন চলমান তখন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যাল এর ক্ষুদ্রগণ্ডি থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরাও উন্নয়নে অংশ গ্রহণ করছে ।শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড।যে জাতি যত শিক্ষিত,সেই জাতি তত উন্নত। বহুল প্রচলিত এই প্রবাদকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে স্বাধীনতার যুদ্ধে লড়াকু মুক্তিযোদ্ধাদের স্বরণে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরীর অনুন্নত এলাকায় বিদ্যালয়টি অবস্থিত বিধায় অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্ছিত ছেলেমেয়েরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল ব্যক্তি,প্রয়াত ও জীবিত, ম্যানেজিং কমিটির সম্মানিত সদস্যগণ এবং শিক্ষক ও কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলে কমপিউটার ল্যাব,সাইন্স ল্যাব ও লাইব্রেরীর সুবিধাসহ বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে। দেশের বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে অত্র বিদ্যালয়টিকে সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সম্মানিত সদস্যগণ, কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি অত্র প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি।

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ বাক্যকে সামনে রেখে যদি বলি, শিক্ষা যদি হয় সভ্যতার রূপায়ন, তাহলে তো একটি জাতি তথা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার সবচেয়ে কার্যকরি মাধ্যম ও শিক্ষা। আর সেই শিক্ষিত জাতির প্রতিটি শিক্ষিত নাগরিক যদি হয় মানবিক ও নৈতিকতানির্ভর শিক্ষিত, তবে তো সভ্যতার সর্বোচ্চ সফলতা আসবেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে শিক্ষার আদর্শিকতা তাই সফলভাবে প্রতিস্থাপন জরুরি। নৈতিকতা বিবর্জিত কোনো মানুষ সে যত বড়ই বিদ্বান হোক না কেন কিংবা সে যত বড়ই মেধাবী হোক না কেন, সমাজ সংস্কারে তার কোনো ভূমিকা থাকে না। কিন্তু প্রতিটা শিক্ষিত মানুষরাই তো সমাজ রাষ্ট্র তথা সভ্যতার প্রতি কিছুটা দায়বদ্ধতা থাকে। আর সেই দায়বদ্ধতা থেকেই একজন শিক্ষিত মানুষ লোভ-লালসা, দুর্নীতি থেকে দূরে থেকে সমাজকে দেখাবে আলোর পথ। একইভাবে একজন প্রকৃত শিক্ষিত ব্যক্তি হবে সর্বোচ্চ মানবিক গুণসম্পন্ন। মানুষ মানুষের জন্য এই নীতিকে আরও সাবলিলভাবে সাধারণ মানুষের ভেতরে যোগাযোগ করাই তো একজন মানবিক শিক্ষিত মানুষের বৈশিষ্ট্য। হিংসাবিদ্বেষ, মারামারি, রাহাজানির ঊর্ধ্বে থেকে একজন মানুষ নিজস্ব স্বকীয়তায় উদ্ভাসিত হয়ে পুনর্গঠন করবে সভ্যসমাজ। আলোকিত করবে রাষ্ট্র। একজন শিক্ষিত ব্যক্তির কাছ থেকে শিক্ষা বঞ্চিত কোনো অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন কষ্ট না পান, কোনো ধরনের হয়রানির শিকার যেন না হয়, সেদিকটাই বিবেচিত হওয়ার কথা। এটাই তো একজন শিক্ষিত মানুষের প্রতি সমাজের প্রত্যাশা। নৈতিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো- শিক্ষার্থীর জীবনকে কোনো আদর্শের লক্ষ্যে পরিচালিত করে তার চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে একান্তভাবে তা প্রতিষ্ঠা করা। সত্যকথা বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, জীবজগৎ ও পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, দেশপ্রেম এবং নৈতিকতাবোধ। এছাড়াও দয়া-করুণা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতা, আত্মত্যাগ, শান্তি, মানবাধিকার, সমাজের সমঅধিকার ও সমমর্যাদা দেয়ার মনমানসিকতা ও অভ্যাস গড়ে তোলা ইত্যাদি সামাজিক কল্যাণমূলক ও দেশের উন্নয়নমূলক মানবীকিয় গুণাবলি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমাদের এখানে দেয়া হয় নৈতিকমূল্যবোধের যাবতীয় শিক্ষা। যে শিক্ষায় মানবিকতা কিংবা নৈতিকতা না থাকে, তবে সে শিক্ষা থেকে হয়তো সমাজ রাষ্ট্র খুব বেশি উপকৃত হতে পারে না। একই সঙ্গে একজন শিশুর প্রথম শিক্ষালয় যেহেতু তার পরিবার এবং প্রথম শিক্ষক তার পিতামাতা সেক্ষেত্রে পরিবারকেও একজন শিক্ষার্থীর মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারেও সচেতন হতে হবে। প্রতিটি শিক্ষালয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও শিক্ষকবৃন্দকে এ ব্যাপারে কাযর্কর ভূমিকা নিতে হবে। এতে সমাজ ও দেশ হবে সমৃদ্ধশালী। আরও উজ্জীবিত হবে স্বজাতির সভ্যতা। আধুনিক শিক্ষার পরিসর সুদূরপ্রসারী হয়েছে এবং সাথে সাথে এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীরা, দেশে ও দেশের বাইরে উল্লেখযোগ্যভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণাসহ সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাতেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে আমাদের মেধাবি শিক্ষার্থীরা । আমরা সবাই মিলে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়টিকে একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছি। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি থেকে শুরু করে শিক্ষকগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন একে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে উন্নয়নের লক্ষ্যে। আমি বিশ্বাস করি যে কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং কর্মীগণ যদি পরিশ্রমী এবং উদার মানসিকতার হন তবে সে প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধি ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।